ইসির আসনে আইজিপি, রিজেন্টের ৪ কর্মী বরখাস্ত

July 10, 2019 12:21 pm
Print Friendly, PDF & Email

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে চড়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় বিজনেস ক্লাসের টিকিট কেটেও নির্ধারিত আসন পাননি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এ নিয়ে তার করা অভিযোগের পর চার কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ অপারেটিং অফিসার-সিওও আশিষ রায় চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরখাস্ত করা স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন এক পার্সার, একজন কেবিন ক্রু এবং দুজন গ্রাউন্ড স্টাফ।

আশিষ রায় চৌধুরী বলেন, সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত হবে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার কারণে বড় ধরনের শাস্তির আওতায় আনা হবে জড়িতদের। কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না।

উড়োজাহাজের আসন নিয়ে ‘প্রতারণা’ করায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার কাছে এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করার পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলো।

এর আগে অভিযোগের পর রিজেন্ট এয়ারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিইসিকে অনুরোধ করা হয়। গত ২ জুলাই মাহবুব তালুকদার সিইসির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

চিঠিতে মাহবুব তালুকদার উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুন স্ত্রীসহ চট্টগ্রামে যান তিনি। ওইদিন রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইটটির নম্বর ছিল আরএক্স ০৭৮৬। বিজনেস ক্লাসে তাদের আসন নম্বর ছিল ১–এ ও ২–ডি। দুজনেরই বোডিং পাসে ভিআইপি সিল মারা ছিল।

উড়োজাহাজে ওঠার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মাহবুব তালুকদারের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।

অভিযোগে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘উড়োজাহাজটি রানওয়েতে রাখা ছিল বলে আইজিপিকে গাড়িতে করে আগেই নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের তোলা হয় সবার পরে। গিয়ে দেখি বিজনেস ক্লাসের কোনো আসন খালি নেই। আমাদের আসনে বসে আছেন আইজিপি ও তার স্ত্রী। উড়োজাহাজের কর্মীরা আমাদের টেনে নিয়ে ইকোনমি ক্লাসের আসনে বসায়। এ অনিয়মের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তব্যরত এয়ার হোস্টেস কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমি এ সময় উড়োজাহাজ থেকে নেমে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা করা সম্ভব হয়নি।’

মাহবুব তালুকদার আরও উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়ে পরে আমি চিফ পার্সারের কাছে জানতে চাই। তার জবাব ছিল, গ্রাউন্ড স্টাফরা ভুল করে আমাদের ইকোনমিতে বসিয়েছে। তখন আমি বলি, তবে আমাদের উপযুক্ত স্থানে বসানো হোক। কিন্তু চিফ পার্সার এরও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে জেনেছি, আইজিপি ও তার স্ত্রীর টিকিট ছিল ইকোনমি ক্লাসের।’

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, এটি রিজেন্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার বিষয়। কে কোন আসনে বসবেন তা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত আসনে বসেই ভ্রমণ করেছেন আইজিপি।

ইসির আইন শাখা থেকে জানা যায়, গত রোববার ইসি সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইসির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মধ্য থেকে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।