উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার ৪০ বছর পর ক্ষমা চাইল নিউ জিল্যান্ড

November 30, 2019 9:34 am
Print Friendly, PDF & Email

এশিয়ানমেইল ডেস্ক

চার দশক আগে এন্টার্কটিকার এক বিমান দুর্ঘটনার কারণ ঢাকতে তৎকালীন সরকারের ছলচাতুরির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন।

১৯৭৯ সালের ২৮ নভেম্বরের ওই  দুর্ঘটনায় ২৫৭ জন প্রাণ হারান। ওই দুর্ঘটনাকে দেশটির শান্তিকালীন সময়ের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়।

সেদিন এয়ার নিউ জিল্যান্ডের ফ্লাইট ৯০১ অকল্যান্ড থেকে পর্যটকদের নিয়ে এন্টার্কটিকায় উড়ে গিয়েছিল। এন্টার্কটিকায় যুক্তরাষ্ট্রের  গবেষণা ঘাঁটি ম্যাকমুরডো স্টেশনের কাছে ৩ হাজার ৭৯৪ মিটার উচ্চতার আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এরেবাসের একপাশে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

উড়োজাহাজটির আরোহীদের মধ্যে ২৩৭ জন যাত্রী ও ২০ জন ক্রু ছিল। নিহতদের বেশিরভাগই নিউ জিল্যান্ডের নাগরিক। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকও ছিলেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

শুরুর দিকে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য চালকদেরকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু গণ অসন্তোষের মুখে নিউ জিল্যান্ডের তৎকালীন সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি রাজকীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে।

তদন্তে দেখা যায়, চালকদের দোষে নয় রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থার অব্যবস্থাপনাই ছিল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ক্রুদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই এয়ার নিউ জিল্যান্ড তাদের উড়োজাহাজগুলোর নেভিগেশন ব্যবস্থাপনা বদলে ফেলেছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

এয়ার নিউ জিল্যান্ডের সাক্ষীরা দুর্ঘটনা নিয়ে মিথ্যা প্রমাণ হাজিরের ষড়যন্ত্র করেছিল বলে রাজকীয় তদন্ত কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি পিটার মাহন অভিযোগ করেছিলেন। তিনি দুর্ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থাটির দায় এড়ানোকে ‘সাজানো মিথ্যার সঙ্গীত’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন।

নিউ জিল্যান্ডের তৎকালীন সরকার ও এয়ার নিউ জিল্যান্ড মাহনের ওই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে।

বৃহস্পতিবার অকল্যান্ডের গভর্নমেন্ট হাউসে চার দশক আগের ওই বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অ’ডুর্ন বলেন, তৎকালীন সরকার ও বিমান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বিষাদ ও শোক বাড়িয়ে দিয়েছিল।

“৪০ বছর পর, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলতে চাই, ওই সময় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকা এয়ারলাইন্সটির কর্মকাণ্ডে ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে। যে কর্মকাণ্ডের কারণে একটি উড়োজাহাজ ও আপনাদের ভালোবাসার মানুষদের হারাতে হয়েছে। চালকরা যে ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল না, আজ এখানে দাঁড়িয়ে সে কথাই পুনর্ব্যক্ত করতে চাই আমি,” বক্তৃতায় বলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

চার দশক আগে রাজকীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন তৎকালীন সরকার গ্রহণ করেনি বলে স্বীকার করে নেন অ’ডুর্ন। দুর্ঘটনার প্রায় ২০ বছর পর মাহনের ওই প্রতিবেদন নিউ জিল্যান্ডের পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছিল।

২০০৯ সালে এয়ার নিউ জিল্যান্ড এন্টার্কটিকায় বিমান দুর্ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিল। বৃহস্পতিবার এয়ার নিউ জিল্যান্ডের এখনকার চেয়ারম্যান থেরেসা ওয়ালশের কণ্ঠেও শোনা গেছে অনুতাপের সুর।

“সেই এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি আমি, ৪০ বছর আগে যে এয়ারলাইন্সটি যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল,” বলেছেন ওয়ালশ।