ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৪৫ জন!

December 10, 2019 12:32 pm
Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ সংবাদদাতা

বোয়িং থেকে কেনা ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশাল বহর। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পিএস, পিআরও, বিমানের পিআরওসহ সবমিলিয়ে এই বহরের সদস্য সংখ্যা ৪৫ জন। তবে প্রতিমন্ত্রী যাচ্ছেন না।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, এটি যান্ত্রিক পরিবহন হওয়ার কারণে প্রকৌশল দল ছাড়া অন্য কেউ নতুন উড়োজাহাজের খুঁটিনাটি সবকিছু বুঝে আনতে পারবে না। কারিগরি সবকিছু বুঝে আনতে কারিগরি দল যেতেই হবে। তাই একটি টেকনিক্যাল টিম সিয়াটলে যাচ্ছেন।

বিমানের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। তারপরেও এ ধরনের বেশকিছু সদস্য সিয়াটলে যাওয়ার দলে যুক্ত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এটি বিমানের খরচের তালিকাই শুধু দীর্ঘ করবে। এতবড় একটি বহরের সদস্যরা ৭-৮ দিন সিয়াটলের পাঁচতারকা মানের হোটেল থাকবেন। সেখানে বোয়িংয়ের কারখানা পরিদর্শন ছাড়াও সফরকারী সদস্যরা ঘোরাফেরা করবেন। তাছাড়া নিউইয়র্ক যাওয়ার টিকিটের দামও চড়া।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এয়ারলাইন্স লোকসানে থাকলেও ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে ওঠার পর এই লট বহরের সদস্যদের সব ধরনের খরচই বহন করবে বিমান কর্তৃপক্ষ। যদিও সম্প্রতি বিমানের পরিচালনা পর্ষদে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুমোদিত হয়েছে। ওই ব্যয় সংকোচন নীতি বোর্ডের সদস্যরাই অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর এখন তারাই ব্যয়বহুল সফরে সিয়াটলে যাচ্ছেন।

‘সোনার তরী’ আনতে বিমানের প্রকৌশল শাখার ৯ জন প্রকৌশলী ছাড়াও এই দলে বৈমানিক রয়েছেন ৯ জন, কেবিন ক্রু ১০ জনসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে কয়েকজনের সেখানে কোনো কাজ না থাকলেও তারা ‘পিকনিক’ করতে যাচ্ছেন বলে রসিকতা করছেন অনেকে।

একটি উড়োজাহাজ আনতে বিমানের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সিয়াটলে ৪৫ জন কর্মকর্তা যাওয়ার বিষয়টিকে বড় ধরনের ব্যয় বলে আখ্যায়িত করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম  বলেন, “বহর দেখে মনে হচ্ছে, এটি ‘প্লেজার টুর (আনন্দ ভ্রমণ)’। সিয়াটলে কোনো কাজ নেই- এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো কোনোভাবেই ঠিক না।’