ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

January 12, 2020 9:44 am
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা

পুরাতন জরাজীর্ণ উড়োজাহাজ আর লোকসানের বোঝা ফেলে নতুন বছরে নতুন করে এগোতে চায় বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ইক্যুইয়িটি খাতে স্থানান্তর ও মওকুফ চায়, এর মধ্যে ২৬শ’ কোটি টাকার সুদ মওকুফ চায় সংস্থাটি। বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ সম্পর্কিত চিঠি পাঠিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ৫,১৫০ কোটি কোটি টাকা পায় অপর সরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর মধ্যে জেট তেল সরবারহ বাবদ পদ্মা অয়েল কোম্পানি পাবে ১,৪৪৯ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার ৯৮৯ টাকা। আর বেবিচক পাবে ১,০৪৭ কোটি ৮৫ লাখ ২২ হাজার টাকা।

এর বাইরে সুদ বাবদ পদ্মা অয়েল কোম্পানি আরও পাবে ৬৫৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৪ টাকা, বেবিচক। সারচার্জ বাবদ পাবে ১,৯৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এ টাকার মধ্যে ২,৪৯৭ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ইক্যুইয়িটি হিসাবে স্থানান্তর ও ২,৬৫২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৪ টাকা মওকুফ চায় বিমান।

অব্যাহত লোকসানের মুখে ২০০৯ সালে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তর হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সময়ে পুঞ্জীভূত এক হাজার ১৯৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা লোকসান ইক্যুইয়িটি খাতে স্থানান্তর করলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিমান।

২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে আবার লোকসান দেয় ১,৪৩৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে ২০১৪-১৫ সালে কিছুটা সফলতা আসে। এ আলোর ঝিলিক ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছর অব্যাহত থাকে। পরের অর্থবছরেই আবার লোকসানে পড়ে বিমান।

অব্যবস্থাপনা, বিমানের অসম প্রতিযোগিতা, পুরাতন বিমান ও লিজে বিমান সংগ্রহের কারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় গুনতে হয় বেশি। মিসরের ইজিপ্ট এয়ারের কাছে থেকে বিমান লিজ নেওয়ার কারণে এখানেই লোকসান গুনতে হয় ১,২০০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও বেবিচকের পাওনা ও সুদ মিলিয়ে ৫ হাজার ১শ’ কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।

তবে এবার নতুন প্রজন্মের ১৫টি বিমান নিয়ে লোকসানের যুগের সমাপ্তি করতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২টি সংগ্রহ করেছে। আরও তিনটি যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে এসব বিমান সংগ্রহ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মনে করছে, জ্বালানি তেল ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাওনা টাকা পরিশোধ করে নতুন খরচ মেটাতে গেলে নতুন করে আবার লোকসানে পড়বে বিমান।

এ জন্য ২,৪৯৭ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৯ টাকা ইক্যুইয়িটি খাতে স্থানান্তর আর সারচার্জ ও সুদ বাবদ পাওনা ২,৬৫২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৪ টাকা মওকুফ চায় সংস্থাটি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এর আবেদন ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থবিভাগের সম্মতি পেলে হালনাগাদ হবে বিমানের দেনা খাতা।