করোনাভাইরাস : বিমানবন্দরে চীন ফেরত যাত্রীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ

January 28, 2020 10:15 am
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা

চীন থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস এখন বিশ্ববাসীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটনসহ নানা ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি থাকায় বাংলাদেশেও এই ঝুঁকির বাইরে নয়।

সতর্কতা হিসেবে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধান স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে চীন ফেরত যাত্রীদের পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চীনের সাথে যোগাযোগ বেশি থাকায় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এখন পর্যন্ত দেশে এ রোগ সংক্রমণের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে, নাক-মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেয়া ও ফ্লু আক্রান্তদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি। ভাইরাস সংক্রমণের পর দেহে বিস্তার ঘটতে পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগে। প্রথমে আক্রান্তের জ্বর হয় এরপর শুকনা কাশি ও এক সপ্তাহ পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো এর প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

বিষয়টি নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, চীন থেকে আগত বিমানগুলোকে আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এয়ারপোর্টে যখন বিমান অবতরণ করে ওই মুহূর্তে যাত্রীদের লক্ষণীয় কোনও উপসর্গ আছে কিনা তা দেখি। যদি ওই মুহূর্তে কিছু ধরা না পড়ে, পরবর্তীতে বাসায় গিয়ে যদি কোনও লক্ষণীয় উপসর্গ দেখা দেয়, বোঝার জন্য আমরা তাদের স্বাস্থ্য তথ্য কার্ড দেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন থেকে নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে, দূরে থাকতে হবে ঠাণ্ডা ও ফ্লু আক্রান্তদের থেকে।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডিজিজ ফর চেস্ট এন্ড হসপিটাল (এনআইডিসিএইচি) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান খান বলেন, আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে সতর্কতা অবলম্বন করব। ভালোভাবে হ্যান্ডওয়াশ করা, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত আমাদের অনেকের মাঝে সর্দি-হাঁচি-কাশি স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে। কিন্তু বিদেশ থেকে আগত কারও মধ্যে এগুলো এক দুই সপ্তাহের মধ্যে দেখা গেলে তাহলে তাকে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠিক কিভাবে শুরু হয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় পশু-পাখি থেকে ভাইরাসটি প্রথম মানবদেহে ঢুকে এরপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে।