জাপানের সঙ্গে বিমান চলাচলের সব বাধা কেটে গেছে

February 5, 2020 10:21 am
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা

ঢাকা থেকে সরাসরি জাপানে বিমান চলাচলের সব বাধা কেটে গেছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সমাঝোতার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে বন্ধ ছিল বিমান চলাচল। গত সপ্তাহে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের ফলে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এখন বিমান বাংলাদেশসহ যে কোন এয়ারলাইন্স ইচ্ছে করলে দ্রুততম সময়ে তাদের ফ্লাইট অপারেট করতে পারে।

সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে গত ২৯ জানুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের এ্যারোনটিক্যাল অথরিটির মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি পর্যালোচনা সভায় এটিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে রয়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের বড় অর্জন।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান। এছাড়াও সভাটিতে বেবিচক, বিমান, পর্যটন ও এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে দু’দেশের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ইস্যু আলোচিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যেকার বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করতে দুই দেশের এ্যারোনটিক্যাল অথরিটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে- ফ্রি এভিয়েশন বা উন্মুক্ত বিমান চলাচলকে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের যে কোন এয়ারলাইন্স জাপানের যে কোন বিমানবন্দরে (হানেদা ব্যতীত) যে কোন সংখ্যক যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। এখন বাংলাদেশী এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশ থেকে চীন (মেইন ল্যান্ড চায়না) ব্যতীত বিশ্বের অন্য যে কোন দেশের বিমানবন্দরের যাত্রী নিয়ে জাপানের টোকিওতে (নারিতা বিমানবন্দর) যেতে পারবে এবং একইভাবে টোকিও থেকে যাত্রী বাংলদেশে আনতেও পারবে।

এর আগে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকা-টোকিও এর মধ্যে সপ্তাহে মাত্র ২টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল। তখন ব্যাঙ্কক হয়ে টোকিও তে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ঢাকা-ব্যাঙ্কক সেক্টরে বিমানের যাত্রী ধারণক্ষমতার শতকরা ৩৫ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে একটি নিষেধাজ্ঞাও ছিল।

যা বাংলাদেশী বিমান সংস্থা বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-ব্যাঙ্কক-টোকিও রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হতো। নতুন চুক্তির ফলে এখন আর ওই নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। আগে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার কোন সুযোগ ছিল না। এখন বিমান সংস্থাগুলো দুই দেশের মধ্যে কার্গো ফ্লাইটও পরিচালনা করতে পারবে।