সময় মতো উড়ছে না বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

February 11, 2020 10:03 am
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে উড়ছে না। কখনও ফ্লাইট ছাড়ার মুহূর্তে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আবার কখনও পাইলট রাস্তায় জ্যামে আটকে পড়ার মতো তথ্য জানিয়ে ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব করা হচ্ছে।

যদিও নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট ধরতে আগেভাগেই যাত্রীরা বিমানবন্দরে গিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। পরে তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

গতকাল সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দিল্লি থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি বিকেল ৫টায় ছেড়ে ঢাকায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে অনটাইমে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ রয়েছে ফ্লাইট স্ট্যাটাসে।

ওই ফ্লাইটের একজন যাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘সোয়া ৩টার ফ্লাইট ৭টায় নিয়া এয়ারপোর্টে চার ঘণ্টা বসাইয়া রাইখা বিমান বলছে যে ফ্লাইট অন টাইম’! শুধু দিল্লি-ঢাকা ফ্লাইটের শিডিউলে সমস্যা হচ্ছে তা কিন্তু না, বিমানের দেশ-বিদেশে অপারেশনে থাকা শিডিউল ফ্লাইটগুলো প্রতিনিয়ত সময় মতো উড়ছে না বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

রোববার ভোরে ঢাকা থেকে সিলেটগামী (বোয়িং) ময়ূরপঙ্খী ফ্লাইটটি সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মোতাবেক ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে এয়ারক্রাফটে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই দেখা দেয় বিপত্তি। এরপর উড়োজাহাজের ভেতরে ঘণ্টা দুয়েক সময় ধরে যাত্রীদের বিড়ম্বনা সহ্য করে ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ঢাকা থেকে উড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা দু’জন কর্মকর্তার  প্রতিবেদক পরিচয় গোপন রেখে কথা বলতে গেলে তখন জানানো হয়, এয়ারক্রাফটটি সোয়া ৮টায় ছাড়ার কথা ছিল। আমরা যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে যাওয়ার সব প্রস্তুতিও শেষ করেছি। কিন্তু এরপরই উড়োজাহাজে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। যার কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়ে যাচ্ছে। এখনই (রোববার সকাল সাড়ে ১০টা) ফ্লাইট অন বোর্ড হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।

একইভাবে ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৭টায় বিমানের বোয়িং-৭৩৭-৩০০ ইআর ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে। এ সময় হোল্ডিং লাউঞ্জে অপেক্ষারত দেড়শতাধিক যাত্রীকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে মেসেজ পেয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, ‘এই ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলট তাদের বাসা থেকে অনটাইমে বের হলেও রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়ার কারণে আসতে পারছেন না। তাই ফ্লাইটটা রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যাবে। পরে সেই সময়ও ঠিক থাকেনি। এভাবে গত দুই-তিন মাস ধরে ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সময় মতো না ছাড়ার কারণে যাত্রীদের দেশে এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

যদিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেন বলেছিলেন, ফ্লাইটগুলো অন টাইমেই ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি যোগদান করার পরই নির্দেশনা দিয়েছি।

তার এই নির্দেশনার পর সিঙ্গাপুরগামী একজন পাইলট যাত্রী হিসেবে নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পর বিমানবন্দর কাউন্টারে যাওয়ার কারণে তাকে অফলোড করা হয়েছিল। বিষয়টি ওই সময় আলোচিত হয়েছিল। এরপরও বিমানের শিডিউল ঠিক না থাকায় যাত্রীদের বিড়ম্বনা দিন দিন বাড়ছে।
যাত্রীরা বলছেন, বিমান যাতে যথাসময়ে ছেড়ে যায় সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। নতুবা আগেভাগে যাতে বিলম্বের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। তাহলে যাত্রীভোগান্তি ও হয়রানি কমে আসবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।