ঢাকা থেকে কম যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে বিমান

February 16, 2020 4:01 pm
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন কেনা ড্রিমলাইনার সোনার তরী (বোয়িং ৭৮৭-৯) দিয়ে ঢাকা-ম্যানচেস্টার নতুন রুট উদ্বোধনের পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে যাত্রী যাওয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও ফিরতি ফ্লাইটে যাত্রী পরিপূর্ণ হয়েই আসছে।

গত ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা বিলম্বে ১২টা ৫৬ মিনিটে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে ২৫৮ জন যাত্রী নিয়ে নতুন প্রজন্মের এয়ারক্রাফট সোনার তরী ঢাকা ত্যাগ করে। ওই দিনই বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহের তিন দিন ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল করছে।

বিমানবন্দর ও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটে সপ্তাহের রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গড়ে প্রতিটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কখনো এক শ’র কিছু বেশি আবার কখনো দেড় শ’ যাত্রী যাচ্ছেন। তবে ফিরতি ফ্লাইটটি ম্যানচেস্টার-সিলেট-ঢাকা হয়ে চলাচল করার কারণে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকছে।

বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিরতি ফ্লাইটটি সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় আসছে। ফলে এই ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রী সিলেটে নেমে যাচ্ছেন। আবার অনেকে সিলেট হয়ে ঢাকা আসছেন।

শুক্রবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেন বলেন, ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট চালু হওয়ার পর এখনো এটি নতুন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। ঢাকা থেকে যাত্রী সংখ্যা কম হচ্ছে এবং ফিরতি ফ্লাইটে পরিপূর্ণ আসছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, খারাপ না। একটু সময় তো দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বিমান লাভের মধ্যে আছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এ মুহূর্তে প্যাসেঞ্জার নিয়ে কোনো রুটে বিমান লাভে নেই। লন্ডন রুটও লাভে নেই। লাভে আসতে একটু সময় লাগে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তত দু’টি সিজন যেতে দিতে হয়। আমরা তো মাত্র এক মাস ১০ দিনের মতো চালালাম।

বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অপারেশনাল কার্যক্রম ঢাকা থেকে মনিটরিং হচ্ছে। এর মধ্যে ফ্লাইট প্লান, নো টাম ওয়েদার সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্ট ঢাকা থেকেই তৈরি করে পাঠানো হচ্ছে। আর ম্যানচেস্টার থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস দিচ্ছে স্থানীয় সুইস পোর্ট নামক হ্যান্ডলিং এজেন্ট।

উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পরই ঢাকা ম্যানচেস্টার রুট চালুর উদ্যোগ নেন। এরপরই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো: মাহবুব আলী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিতা কেটে নতুন এই রুটের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের সাথে কুশলবিনিময় করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানের সেবার মান বাড়াতে নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। নতুন রুট চালু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিমান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, এক সময় বিমানে রুট বন্ধ হতে থাকে। আমরা নতুন নতুন রুট চালু করেছি। বিমান মুনাফা করছে। ম্যানচেস্টার রুট চালু হলো। আগামীতে নিউ ইয়র্ক ও টরেন্টো রুটেও ফ্লাইট চালু করা হবে।

ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটে সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট চলাচল করবে। এটি বিমানের ১৭তম রুট। নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ এ সর্বমোট আসন ২৯৮টি। এ উড়োজাহাজে ৩০টি বিজনেস ক্লাস, ২১টি প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে প্রায় ৯০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে এ রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটে ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রী ১৬ জন, বিজনেস ক্লাসে তিনজন এবং ইকোনমি ক্লাসে ২৩৯ জন যাত্রী ছাড়াও ১০ জন কেবিন ক্রু, দু’জন পাইলট এবং একজন ফার্স্ট অফিসার ছিলেন।