বন্ধ হওয়ার উপক্রম ঢাকা-চীন রুটের সব ফ্লাইট

February 25, 2020 12:13 am
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আকাশপথে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। আর এ কারণে চীনের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের নামি-দামি সব এয়ারলাইন্স।

বাংলাদেশ থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে এখনো পর্যন্ত কোনো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। কিন্তু ঢাকা থেকে চীনগামী ফ্লাইটগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। চীন থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটেও যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এ অবস্থায় ঢাকা-চীন রুটে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা থেকে চীনগামী ফ্লাইটগুলোতে যে হারে যাত্রী সংখ্যা কমছে, তাতে ফ্লাইট পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। ফ্লাইট প্রতি ৬০ শতাংশের নিচে যাত্রী থাকলে ওই ফ্লাইটে লোকসান দিতে হয়। বর্তমানে ঢাকা থেকে চীনগামী সবগুলো ফ্লাইটের যাত্রী সংখ্যা ৪০ শতাংশের নিচে। এ অবস্থায় দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে ঢাকা থেকে চীনগামী চারটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে লোকসানে ফ্লাইট চালাচ্ছে তারা।

সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, লোকসান দিয়ে এভাবে আর বেশি দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। তখন রুটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

দেশীয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ছাড়াও চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন ঢাকা-চীনে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। আর ঢাকা থেকে হংকং রুটে ড্রাগন এয়ার ফ্লাইট পরিচালনা করে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) বলছে, যেভাবে এয়ারলাইন্সগুলোতে যাত্রী কমে গেছে, তাতে এ খাতে এ বছরে ২৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান হবে। এর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের এয়ারলাইন্সগুলো লোকসান দেবে ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার। আর এশিয়ার বাইরে ১.৫ বিলিয়ন ডলার লোকসান হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইএটিএ বলছে, চীনের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল খাতে লোকসান হবে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার। ট্রেড বডিগুলো বলছে, এয়ারলাইন্সগুলোতে ১৩ শতাংশ যাত্রী কমেছে, যার বেশিরভাগ চীনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতির কারণে ঢাকা-চীন রুটে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে জানুয়ারি থেকে। যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার পরেও প্রথম দিকে কোনো এয়ারলাইন্সই ফ্লাইট সংখ্যা কমায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে আশঙ্কাজনক হারে। এজন্য ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে সবাই।

ঢাকা-কুনমিং রুটের গড় যাত্রী সংখ্যা এখন ১০০। এ কারণে ঢাকা-কুনমিং রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে এনেছে। চায়না ইস্টার্ন এ রুটে সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইট পরিচালনা করত। এখন শুধুমাত্র শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার যাত্রী আনা-নেওয়া করছে এয়ারলাইন্সটি।

ঢাকা-গুয়াংজু রুটে সপ্তাহের সাত দিন ফ্লাইট পরিচালনাকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা রবি, সোম, বুধ ও শুক্রবার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। শুধু ফ্লাইট কমিয়ে বসে থাকেনি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স, তারা ২৮০ আসনের এয়ারবাস এ ৩৩০ উড়োজাহাজের বদলে অপেক্ষাকৃত ছোট বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করছে। বোয়িং ৭৩৭ এর আসন সংখ্যা মাত্র ১৭৪।
ঢাকা-গুয়াংজু রুটে সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল দেশীয় এয়াররাইন্স ইউএস-বাংলা। কিন্তু বর্তমানে এ রুটে তাদের যাত্রী সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। গুয়াংজু থেকে ঢাকার ফ্লাইটে ১৭৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭ এর উড়োজাহাজে যাত্রী সংখ্যা ১০০ এর কাছাকাছি থাকলেও ঢাকা থেকে গুয়াংজুর কোনো কোনো ফ্লাইটে যাত্রী ৩০ থেকে ৪০ এ নেমে এসেছে। এ অবস্থায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে এনেছে। বর্তমানে তারা রবি, বুধ ও শুক্রবার ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এ ব্যাপারে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পিআর) কামরুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে যাত্রী সংখ্যা কমে গেলেও চীন থেকে বাংলাদেশিরা যাতে দেশে ফিরতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছি। যাত্রী সংখ্যার ওপর নির্ভর করেই ফ্লাইট সংখ্যার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।