বীমা নবায়নে সংকটে পড়তে পারে বিমান

May 16, 2020 10:59 am
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে উড়োজাহাজ বহরের বীমা নবায়ন নিয়ে সংকটে পড়তে পারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সাধারণ বীমা করপোরেশনের সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এক বোর্ড সভার আলোচনায় বিমানের এ সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। সভার কার্যপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজ বহরের উড়োজাহাজের ফ্লাইট পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির বিপরীতে বীমা কাভারেজ নিয়ে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সংস্থাটির বহরের উড়োজাহাজগুলো সরকারি সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। প্রচলিত বীমা আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদের বীমা সাধারণ বীমা করপোরেশনে করানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিদ্যমান বিভিন্ন ঝুঁকির বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের উড়োজাহাজগুলোর বীমা পলিসি সাধারণ বীমা করপোরেশন থেকে করানো হয়েছে।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের সব এয়ারলাইনসই কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচল শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান বীমাগুলোর নবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠানই অনীহা প্রকাশ করবে। এছাড়া প্রিমিয়ামের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগের লোকসানের কারণে কিছু পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে এবং বেশির ভাগ পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সক্ষমতাও কমিয়ে এনেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বীমা নবায়নে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিদ্ধান্ত চেয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে।

করপোরেশনের বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বর্তমান বছরের অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে এয়ারলাইনসগুলোর বীমা বা পুনঃবীমা নবায়ন করতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করতে না পারলে বিমানের উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্ন হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান বছরের নবায়ন কার্যক্রম অর্থনৈতিক ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়ন কমিটি লন্ডনে উপস্থিত থেকে পুনঃবীমা কার্যক্রমের ব্রোকার বা পুনঃবীমাকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করাটাই যৌক্তিক হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অনেক সময়সাপেক্ষ হবে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রিমিয়াম নির্ধারণ করাটাও কঠিন হবে।

বোর্ড সভায় এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর দেশে টেন্ডারের মাধ্যমে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এ বছর চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে টেন্ডার করার পরিবেশ নেই। তাই লন্ডনে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি কোম্পানির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে চাচ্ছি।

সূত্রমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে সাধারণ বীমা করপোরেশন লন্ডনের লয়েডস মার্কেটভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পুনঃবীমা ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বহরের মূল্যের ওপর পুনঃবীমা কাভারেজ নিয়ে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত টিম লন্ডনের লয়েডস মার্কেটে গিয়ে এ পুনঃবীমার কাজ সম্পন্ন করে। সাধারণ বীমা করপোরেশন পর্ষদের অনুমোদিত টপ রেটেড ব্রোকারদের কাছে উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় এবং তাদের উপস্থিতিতে এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত অবহিত করা হয়।