বাড়ি ফিরতে ব্যক্তিগত গাড়ির অলিখিত অনুমতি ; তবে ঈদের দিন ঘোরাফেরা নিষেধ

May 22, 2020 4:59 pm
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশি বাধা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর ছাড়ার ব্যাপারেও পুলিশ কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

আজ শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্যের পাশাপাশি আরো জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে  দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে  ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন ঘরমুখো মানুষেরা। সেক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। বৃহস্পতিবার সরকারের উচ্চমহল থেকে পুলিশকে এ ধরনের একটি মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটিতে জরুরি কাজের জন্য কেউ যদি গ্রামের বাড়ি ফিরতে চায় তাহলে পুলিশ যেন তাদের অনুমতি দেয় এবং খুব বেশি হয়রানি না করে। খুব বেশি প্রশ্নোত্তরের শিকার না হতে হয় ঘর মুখো মানুষদের। তবে গণপরিবহন যাতে না চলে সে ব্যাপারে কঠোর হতে বলা হয়েছে পুলিশকে।

এদিকে নির্দেশনাটি পাওয়ার পর হাইওয়ে পুলিশসহ, সকল জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সরকারের উচ্চমহল থেকে মৌখিক এই নির্দেশনাটি প্রথমে পুলিশে আসে। নির্দেশনায় বলা হয়, যারা কষ্ট করে বাড়ি ফিরছেন তাদের যেন বাড়ি ফিরতে দেয়া হয়। তবে তারা যেন গণপরিবহনে বাড়ি ফিরতে পারবেন না।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘুরমুখো মানুষদের বাধা না দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের বলা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকবে গণপরিবহন।

 

অপরদিকে, দেশজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণে চলমান সংকট বিবেচনায় এবারের ঈদে বাইরে ঘোরাফেরা নয়, বরং সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আজ শুক্রবার (২২ মে) আসন্ন ঈদুল-ফিতর ও চলমান করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে র‌্যাব গৃহীত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

র‌্যাব ডিজি বলেন, এবার একেবারেই ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে আমরা ঈদুল-ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছি, যখন প্রত্যেকটি জেলা করোনা আক্রান্ত। তাই দেশবাসীকে অনুরোধ করব ঈদের দিন কেউ ঘোরাফেরার জন্য বাইরে বের হবেন না। আপনারা ঘরে থাকুন আপনাদের জন্য আমরা বাইরে আছি।

তিনি জানান, এবার ঈদের দিনে বিনোদনের নামে ঘোরাঘুরির বা কোনো বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনীয় স্থানে জমায়েত করা যাবে না। বিনোদন কেন্দ্র বা দর্শনীয় স্থানগুলোতে র‌্যাবের নজরদারি থাকবে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর খোলা আকাশের নিচে ঈদুল-ফিতরের নামাজ আদায় করি। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মতে মসজিদগুলোতে একটা নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে একাধিক ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদের নামাজ ঘিরে অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো র‌্যাবও নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, অন্যবার ঈদের নামাজ ঘিরে অল্প সময়ের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। কিন্তু এবার মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। সেজন্য মসজিদ কমিটি ও সম্মানিত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে আসবেন, নির্ধারিত সময় গ্যাপ দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় জামাতের ব্যবস্থা করবেন।

করোনার সংকটের মধ্যে ঈদের নামাজ ঘিরে কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে র‌্যাব তাদের দায়িত্ব পালনে পিছপা হয়নি বরং চলমান যে প্রক্রিয়া সেটা আরো গতিশীল ও ত্বরান্বিত রেখেছে। যে কোনো সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী কিংবা জঙ্গি গোষ্ঠীর অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সেজন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে, নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।