করোনায় টিকায় আগ্রহ কম নিউইয়র্কবাসীর

December 7, 2020 1:38 am
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে। প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর নগর নিউইয়র্ক আবারও ঝুঁকিতে। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ এখন খুব করে ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু অনেক নিউইয়র্কবাসীর মধ্যেই এই করোনার টিকা নেওয়ায় অনীহা দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষই করোনা টিকা নিতে আগ্রহী নয়। নিউইয়র্কবাসীও এর ব্যতিক্রম নয়। মানুষের মধ্যে বিদ্যমান অনাগ্রহের প্রেক্ষাপটে সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ অনেকেই প্রকাশ্যে কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন। নিউইয়র্কবাসীকে ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ড. রবার্ট অ্যাটমারও জানিয়েছেন, করোনা টিকা তিনি প্রকাশ্যে গ্রহণ করবেন। একই কথা জানিয়েছেন ভাইরোলজিস্ট জন মুরসহ অনেকে।

এ বিষয়ে জন মুর নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে বলেন, প্রথম ভ্যাকসিনটি অনুমোদনের পরপরই তা গ্রহণে আমার কোনো দ্বিধা নেই। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালকে একটি স্বাভাবিক বছরে রূপান্তরিত করতে এর চেয়ে ভালো সুযোগ আমাদের সামনে নেই। আপনারা জানেন, ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে কত লম্বা সময় লেগেছিল। সেই মহামারি ১৯২১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। করোনাভাইরাসও এমনি এমনি বিদায় হবে না, যদি আমরা তাকে না তাড়াই। আশা করি সামনের বছর আমাদের জন্য শুভ হবে।’’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভ্যাকসিন যদি ৭০-৮০ শতাংশ লোক গ্রহণ করে, তবেই এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। না হলে এই টিকা দিয়েও কোনো লাভ হবে না
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভ্যাকসিন যদি ৭০-৮০ শতাংশ লোক গ্রহণ করে, তবেই এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। না হলে এই টিকা দিয়েও কোনো লাভ হবে না। এ কারণেই বিশিষ্টজনেরা করোনার টিকা নিতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ফাইজারের তৈরি টিকার অনুমোদনের বিষয়ে সভায় বসবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। মানুষ এই সভার দিকে তাকিয়ে আছে এখন। পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য সভাটি এফডিএর ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি প্রচার করা হবে।

এদিকে মডার্নার তৈরি অন্য একটি করোনা টিকার অনুমোদনের আবেদন নিয়ে এফডিএ আগামী ১৭ ডিসেম্বর সভায় বসবে। এই দুই সভাতে দুই প্রতিষ্ঠানের তৈরি টিকা অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এগুলোর উৎপাদন ও বিতরণকাজ শুরু হয়ে যাবে। এ জন্য আনুষঙ্গিক অন্য সব বিষয়াদি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কিন্তু অনেকেই করোনা টিকার প্রতি আস্থা পাচ্ছেন না। নিউইয়র্কের ওয়াশিংটন হাইটসের বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী মাইক গ্যালো নিউইয়র্ক ডেইলিকে বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য আমাকে বাধ্য করা যাবে না। আমি এগুলোয় বিশ্বাস করি না। আমি এমনকি ফ্লু ভ্যাকসিনও নিই না।’

আশপাশে অনেকেই যখন টিকা নেবে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা যখন ভালো হবে, তখন বাকিদের কাছেও এই টিকা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

তবে সবাই এমন নয়। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে ৪৫ বছর বয়সী মেই লিউং, জেরেমি মেরিনসহ আরও অনেকের কথা বলা হয়েছে, যারা এরই মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। শুরুর ধাপেই তাঁরা টিকা গ্রহণের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষ করোনার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী। কিন্তু দুশ্চিন্তা হচ্ছে বাকিদের নিয়ে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে অন্তত ৭০-৯০ শতাংশ মার্কিনকে যে ভ্যাকসিনটি নিতে হবে।

সিডিসি যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে এই টিকা প্রথম স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের দেওয়া হবে। কিন্তু এখানেই বেঁধেছে বিপত্তি। ড. রবার্ট অ্যাটমার বলেন, কিছু চিকিৎসক ও নার্স প্রথম ধাপেই এই টিকা গ্রহণে আগ্রহী নন বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁরা চান, অন্যরা আগে নিক। অ্যাটমার বলেন, ‘এটাই মানুষের স্বভাব। বহু স্বাস্থ্যকর্মী মহামারিকালে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার কৌশল আয়ত্ত করেছেন। তাঁরা ভাবছেন, এভাবে আরও কিছুকাল তাঁরা চালিয়ে যেতে পারবেন।’ তবে হাল ছাড়ছেন না অ্যাটমার। নিউইয়র্ক ডেইলিকে তিনি বলেন, ‘আশপাশে অনেকেই যখন টিকা নেবে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা যখন ভালো হবে, তখন বাকিদের কাছেও এই টিকা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।’