বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধুঁকছে

February 2, 2021 9:02 pm
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার:

শাসকগোষ্ঠীর পরিকল্পিত খুন-গুম, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস-নিযাতনে অতিষ্ঠ মানুষ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতা সবক্ষেত্রেই। নেই বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার। মৃত্যুমুখে ধুঁকছে গণতন্ত্র। বহুকস্টার্জিত এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত মানবতাকামী সকলকেই আওয়ামীলীগ সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্র : লঙ্ঘিত মানবাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহবান জানান। ৩১ জানুয়ারি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোরাম (আইডিএফ) অনলাইন জুমে এই সেমিনারের আয়োজন করে।


এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে গণতন্ত্র শব্দটি বড়ই বেমানান। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন-হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রিয় সাংসদ ইলিয়াস, চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য নেতা কর্মীকে গুম করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা দিয়ে দমন-পীড়ন, জুলুম- নির্যাতন চালাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকলাঙ্গ করে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহার করছে। ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বিচারহীনতা এবং রাতের আঁধারে ভোটের সংস্কৃতি। এজন্য এখনই বাংলাদেশের মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

সেমিনারে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। যে দেশে গণতন্ত্র যত স্ট্রং, সে দেশে গণমাধ্যম তত স্বাধীন। দুৰ্ভাগ্যজনক হলেও সত্য- বাংলাদেশে গণতন্ত্র শধুই নামেমাত্র। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ত্ব চরম সংকটে। পত্রিকা – টিভি বন্ধ, সাংবাদিক খুন-গ্রেফতার- হুমকি, চাপিয়ে দেয়া ডিজিটাল আইন, গণতন্ত্র হত্যা ও মানবাধিকার ধ্বংসসহ বর্তমান সরকারের পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নাধীন নানা দু:শাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ। সত্য কথা বললেই মামলা-হামলা, করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয় সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, শফিকুল ইসলাম কাজল, আরিফুলদের মতো।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ন্যাশনস করসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশনের সদস্য, স্টেইট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের খন্ডকালীন শিক্ষক এবং ইন্টারন্যাশণাল ক্যাম্পেইন ফর রেস্টরিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক ইমরান আনসারী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভুলন্ঠিত গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকারের উৎকৃষ্ট সব উদাহরণ তুলে ধরেন। এতে উঠে আসে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষরা ভালো নেই, বেঁচে থাকার জন্য স্ট্রাগল করছে কস্টার্জিত-মহামূল্যবান গণতন্ত্রও।

আইডিএফ এর সভাপতি ও কালের কন্ঠের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে `গণতন্ত্র’, `মানবাধিকার’ শব্দগুলো জাদুঘরে তুলে রাখার সময় হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বাড়ছেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার কারণে মতপ্রকাশের অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২০ সালের রিপোর্ট তুলে ধরে জানান, গত বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছে ১৮৮ জন। তাদের হেফাজতে (গ্রেপ্তারের পর) নিহত হয়েছে ১১ জন, আর গ্রেপ্তারের আগে মারা গেছে ৫ জন এবং গুলিতে নিহত হয়েছে ৮ জন, গুম ও নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৭ জন। এছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক হাজার ৬২৭ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৫৩ জন। যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে ২০১ নারী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হয়েছে ১৪ জন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৫৪ জন। সীমান্তে গুলিতে ৪২ জন এবং শারীরিক নির্যাতনে সাতজনসহ ৪৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৩০ মামলায় ২৭১ জনকে আসামি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪৭ সাংবাদিক।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু বলেন, গাধার পেটে যেমন ঘোড়া জন্মায় না, তেমনি এই আওয়ামী নির্বাচন কমিশনকে দিয়েও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। চাটুকার এই কমিশনের কারণে নিশীথ ভোটের দেশ এখন বাংলাদেশ। সংগ্রামী জনতাকে এখনই সংগ্রামে নামতে হবে, টেনে হিঁচড়ে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে হবে অবয়ধ এই সরকারকে।

আইডিএফ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরা আলম সোহেল বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বাংলাদেশে হত্যা, গুম ও অপহরণ চলছে। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে অভয়ধ আওয়ামীলীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরে রাতের আঁধারে ভোটের সংস্কৃতি চালু করেছে। ১০ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রযন্ত্র এখন স্বৈরতান্ত্রিক, তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

ইস্ট লন্ডন বিএনপির সহ-সাধারন সম্পাদক আকলিমুর চৌধুরী রাজা বলেন, পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গণতন্ত্র- মানবাধিকার গিলে ফেলেছে আওয়ামীলীগ সরকার। উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট চালিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করছে অবয়ধ এই সরকার।

সাংবাদিক আবু তালেব বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও গণতন্ত্রের ভঙ্গুর অবস্থা আমাদের পীড়িত ও বিচলিত করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। আর পদে পদে ভুলন্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকার।

লন্ডন মহানগর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান রনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষই আজ ভালো নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে স্বৈরাচার আওয়ামিলীগ সরকার। ভিন্নমত পোষণকারিদের বিরুদ্ধে মামলা -হামলা করে নিযাতন করা হচ্ছে। নিশিরাতের ভোট নয়; সুষ্ট নিবাচন দিন, দেখবেন জনগনের রায়ে পালানোরও সুযোগ মিলবে না।

ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোরাম (আইডিএফ) আয়োজিত সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহজাবিন রেহমান খোশনোবিশ, অন্জনা আলম, সদস্য সচিব-যুক্তরাজ্য মহিলা দল। এছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক হাসনাত কবির রিপন খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলু, যুক্তরাজ্য যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতা শামীম ইকবাল, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু নাসের শেখ ,ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাজ্য বিএনপির ইমতিয়াজ এনাম তানিম, লন্ডন মহানগর যুবদলের সহ:প্রচার সম্পাদক আবু জাফর আব্দুল্যাহ, বাহরাইন বিএনপির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, নারী নেত্রী মমতাজ আলো, শকোরা ইতি রব, ইয়াসমিন আক্তার প্রমুখ।