লিডস সহ সারাদেশে স্কুল খুলছে সোমবার

March 4, 2021 6:32 pm
Print Friendly, PDF & Email

মোহাম্মদ জাকারিয়াঃ

টিকা কর্মসূচিতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে আছে যুক্তরাজ্য। এখন পর্যন্ত করোনার ভ্যাকসিন পেয়েছেন এক তৃতীয়াংশ মানুষ। এ অবস্থায় সোমবার (৮ মার্চ) থেকে লিডস সহ সারাদেশে খুলতে যাচ্ছে স্কুল। সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে যুক্তরাজ্যের সিটি কাউন্সিল ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।

লিডসের হেয়ার হিলস প্রাইমারি স্কুলের অভিভাবক মল্লিক ওয়াহিদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বাচ্চা স্কুলে যাবে তাই সে অানন্দিত। স্কুলে বাচ্চারা বিশেষ ভালো সময় কাটায়। সে-সময় সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা লেখাপড়া তাদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। তাই সব শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে চায়।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত বাং সাইড স্কুলের এক  শিক্ষার্থী বললেন, খুবই ভালো লাগছে সোমবার থেকে স্কুলে যাবো এটি ভেবে।
স্কুল শিক্ষক আলী আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের বরন করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যপক পরিসরে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করছি নতুন উদ্যোমে আমরা লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবো।

অভিভাবক হেফজুর রহমান বলেন, সোমবার স্কুল খুলছে। আমরা এমন একটি মুহুর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। বাসায় শিশু বাচ্চাদের রেখে আমরা জবে যেতে পারছিলাম না।
এদিকে স্কুল খোলার এক সপ্তাহ আগে গত সোমবার লন্ডনের কিছু স্কুল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সবমিলে প্রায় একবছর পর পুরোদমে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাই খোলার পর কেমন পরিস্থিতি হবে সেটা দেখতে তিনি এ সফর করেন। 
এ সময় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এসময় উপস্থিত রাখা হয় পুর্ব প্রস্ততি হিসেবে। তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণে যেন মেতে ওঠেন বরিস। এ সময় বরিস শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে খোজ খবর নেন।

পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। কথা হয় ভ্যাকসিন ও আগামী সপ্তাহে স্কুল খোলার বিষয়টি নিয়ে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ সময় দাবি করেন, করোনার যেকোনো ধরনের বিরুদ্ধে তাদের টিকা কার্যকরী।
তিনি বলেন, আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রত্যেকটি মানুষই চাইছেন স্কুল খোলার জন্য। সে অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের হাতে ৫০ মিলিয়ন করোনার টেস্টিং কিট আছে, আমরা গণহারে টিকার কাজ যেমন চালাতে পারছি, তেমনি পরীক্ষা চালিয়ে যেতে পারবো। টিকার ওপর জনগণের ভরসা বাড়ছে। আমি নিজেও শঙ্কার কিছু দেখি না। যে কোনো বৈশিষ্টের কোভিড আমরা রুখে দিতে পারবো।
এদিকে, ব্রিটেনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষকে কোভিড-১৯-এর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় দুই কোটি ৯০ হাজার মানুষকে দেয়া হয়েছে এ ডোজ।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার নিজস্ব ভ্যাকসিন ছাড়াও মার্কিন ভ্যাকসিনও দেয়া হয়েছে। টিকা কর্মসূচিতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এটিকে বিশাল জাতীয় কৃতিত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস কাজের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। মে-জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ককে এক ডোজ করে টিকা দেয়ার কাজ শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
আর ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ৮০ বছর বয়সীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার অন্তত ৮০ শতাংশ হ্রাস করে।
ইউরোপে করোনায় সবচেয়ে প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে অধিক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসেরও সন্ধান মিলেছে। এতে ভাইরাসটি সেখানে দ্রুত ছড়িয়েছে। তবে গণহারে টিকা কার্যক্রম আশার আলো দেখাচ্ছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করেন হ্যানকক।